বুধবার, ০৮ Jul ২০২৬, ০৭:২৬ অপরাহ্ন

অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর লাশ উদ্ধার, পরিবারের অভিযোগ হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : নীলফামারীতে মাহবুবা হোসেন বর্ষা (১৮) নামে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল রবিবার রাত ১১টার দিকে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল থেকে ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়। আজ সোমবার সকালে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

মাহবুবা হোসেন জেলা সদরের ইটাখোলা ইউনিয়নের করলা বেচা টারী গ্রামের তাওহিদ ইসলাম সিজারের (২৭) স্ত্রী এবং জেলা শহরের পূর্ব কুখাপাড়া গ্রামের বাবুল হোসেনের মেয়ে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, গত বছরের ৩০ অক্টোবর জেলা সদরের ইটাখোলা ইউনিয়নের করলা বেচা টারী গ্রামের মরহুম খায়রুল ইসলামের ছেলে তাওহিদ ইসলামের সঙ্গে বিয়ে হয় জেলা শহরের পূর্ব কুখাপাড়া গ্রামের বাবুল হোসেনের মেয়ে মাহবুবা হোসেনের। মেয়ের বাবা বাবুল হোসেন জেলা সদরের পঞ্চপুকুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

বাবুল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়েকে হত্যা করে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে লোকমুখে জানতে পেরে হাসপাতালে গিয়ে মেয়ের লাশ দেখতে পাই।

তিনি বলেন, রবিবার রাত ৮টার দিকে আমার সঙ্গে মেয়ের মুঠোফোনে শেষ কথা হয়েছে। আমার ছেলে চীনে লেখাপড়া করে। সেখান থেকে সে তার ছোট বোনের জন্য মোবাইল ফোনসেট কেনার জন্য টাকা পাঠিয়েছে। ওই টাকায় একটি সেট কিনে রেখে আমি সেটি নেওয়ার জন্য মেয়েকে বাড়িতে আসতে বলি। কিন্তু সে বলেছিল আজকে আমরা বাইরে ঘুরতে গেছিলাম, তাই ক্লান্ত। কাল সকালে যাব বলে কথা শেষ করে। এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালে মেয়ের লাশ পেলাম।

তিনি জানান, সোমবার ময়নাতদন্ত শেষে বাদ আছর মেয়ের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার পর থেকে গৃহবধূর স্বামী তাওহিদ ইসলাম সিজার পলাতক।

এ বিষয়ে নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম আজমিরুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নির্যাতনের কারণে ওই গৃহবধূ মারা গেছেন। আমরা রাতে লাশ উদ্ধার করে সোমবার সকালে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেছি। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com